শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খুলনার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার কাছে কৃতজ্ঞ ও ঋনী :  মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক দেশের সব অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের, দ্রুত কার্যকরের দাবী পাইকগাছায় পূজা পরিষদের পৌর শাখা কমিটি গঠন খুলনায় বিএনপির ৮৯২ নেতাকর্মীর নামে মামলা : ২৯ জন জেল-হাজতে, ১২নারী নেতাকর্মীর জামিন কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা  ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশ তান্ডব চালিয়ে উল্টো মামলা দিয়ে বিএনপির নেতার্মীদের গ্রেফতার করছে : মনা পাইকগাছায় সারদা আশ্রমের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরন বিতরন নগরীতে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে সমাবেশ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন খুলনা নগরীর অধিকাংশ অসহায় মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীতে যুক্ত করা যায়নি

শাশুড়ির অনৈতিক সম্পর্কে বাঁধা দেওয়ায় শিশুসন্তানসহ গৃহবধুকে নির্যাতন; মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকী

সংবাদদাতার নাম :
  • প্রকাশিত সময় বুধবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৯৬ পড়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাগেরহাট সদরের খারদ্বার এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা তৈফুন নাহারের বিরুদ্ধে তার বড় ছেলের স্ত্রীকে শিশুসন্তানসহ নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিত এক নাবালিকার সাথে পুনরায় ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের আলোকে পিবিআই এর তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত, বাগেরহাটে একটি মামলা (মামলা নং-১২৪/২০) হয়। কিন্তু মামলা তুলে নিতে এবং আদালতে হাজিরা দিতে না আসার জন্য বাদী পক্ষকে নানাভাবে হুমকী দেওয়া হচ্ছে। মামলা উঠিয়ে না নিলে এবং স্বাক্ষ্য দিতে এলে সন্তানসহ বাদীকে হত্যা করা হবে বলে আসামীপক্ষ হুমকী দিচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী নাদিরা সুলতানা আফরিন সাংবাদিকদের জানান, তার শাশুড়ী সৈয়দা তৈফুন নাহার একাধিক পরপুরুষে আসক্ত, এসব কাজে বাঁধা দিলে তার উপর নেমে আসতো নির্যাতন। আমার ছোট বাচ্চাসহ আমাকে খেতে দেওয়া হতো না। আমার শাশুড়ী এবং আমার স্বামী তৈহিদুল ইসলাম নিয়মিত অত্যাচার করতো। প্রায়ই শাশুড়ীর একাধিক তথাকথিত পুরুষ বন্ধুরা বাসায় এসে উপরের ঘরে রাতভর সময় কাটাতো, আমাকেও তাদের সঙ্গ দিতে বলতো, আমি রাজী না হওয়ায় চলতো নির্যাতন। আমাকে ছেলেসহ একঘরে আটকে রাখতো। আমি ন্যায় বিচার চাই, আমার ছেলে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বাগেরহাট শাখার প্রচার সম্পাদক নাদিরা আকরাম জানান, সৈয়দা তৈফুন নাহার একজন খারাপ প্রকৃতির মহিলা, স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাগেরহাট থাকেন এবং বিভিন্ন খারাপ কাজের সাথে জড়িত। তিনি তার ছেলের স্ত্রী এবং শিশু সন্তানকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন, খেতে পর্যন্ত দিতেন না।

এ বিষয়ে নাদিরা সুলতানা আফরিন এর আইনজীবী ফকির ইফতেখারুল ইসলাম রানা বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মামলার বাদী নাদিরা সুলতানা আফরিনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, সে বাগেরহাটে আসতে পারছেন না। সৈয়দা তৈফুন নাহারের অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে বিশেষ মহলে তার ওঠাবসা রয়েছে, ফলে অনেক প্রভাবশালী লোকজনই তার পক্ষে কাজ করে। এখন ভয়ের কারণে যদি নাদিরা সুলতানা আদালতে আসতে না পারে তাহলে মামলাটি চালানো মুসকিল হবে এবং সে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। সৈয়দা তৈফুন নাহার তার বড় ছেলে তৈহিদুল ইসলামকে প্রায় দুই বছর আগে এক নাবালিকা মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছেন, যেটা আইনসিদ্ধ নয়। তিনি আরো জানান, সৈয়দা তৈফুন নাহার যেখানে থাকেন সেই জায়গা নিয়ে তাঁর ভাই ও শরীকদের সাথে বিরোধ রয়েছে এবং জায়গাটি দখলের জন্য সেখানে একটি পাঠাগার (এব্রাহিম মোল্লা গাঙচিল গণ পাঠাগার) তৈরী করেছেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সৈয়দা তৈফুন নাহার তাঁর বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সৈয়দা তৈফুন নাহার গাঙচিল আন্তর্জাতিক সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদ বাগেরহাট শাখার সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনের নামে রশীদ বিহীন চাঁদা উত্তোলন, সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থিক হিসাব প্রদান না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে জানা যায়, সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানের অর্থ, সদস্যদের চাঁদাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে আসা অর্থ সংগঠনের কাজে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করে চলেছেন। কেউ এর হিসাব চাইলেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। সরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের উচ্চ পর্যায়ের লোকদের সাথে চলাফেরা থাকায় কেউ তাকে ঘাটাতে চায় না।

এ বিষয়ে সংগঠনের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বাগেরহাট শাখার সদস্য বেবি পারভিন পপি জানান, সংগঠনের লেবাস গায়ে লাগিয়ে তিনি ভয়-ভীতি দিয়ে চাঁদা তোলাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এসব বিষয়ে প্রশাসন তৎপর না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে কোন অনৈতিক কাজ মেনে নেওয়া যায় না। তিঁনি আরো বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত গাঙচিল ১৪৪তম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ২০২১ এ সৈয়দা তৈফুন নাহার এর নিকট আত্মীয় তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধার নামে সম্মাননা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল মনসুর স্মৃতি গাঙচিল সম্মাননা’ ২১ নামে সম্মাননা দিলেও ঐ ব্যক্তির নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের কোথাও অন্তর্ভূক্ত হয়নি। বিষয়টি আইনের স্পস্ট লংঘন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা হলো

এ ধরনের আরো সংবাদ

© All rights reserved by www.banglardinkal.com (Established in 2017)

Hwowlljksf788wf-Iu