উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা

60

অসীম কুমার সরকার :

আমার কাজ সাধারণ মানুষের উন্নয়ন । আমার রাজনীতি সাধারণ মানুষের জন্য, নিজের জন্য নয়। বিস্ময়কর এই উক্তিটি করেছেন-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ  সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী, ইশ্বরের যেন এক বিস্ময় সৃষ্টি। এই বিস্ময় নারী অবিরাম গতিতে ছুটে চলেছেন তাঁর প্রাণের দেশ ও দেশের মানুষকে উন্নয়নের স্বর্ণ শিখরে পৌছে দিতে। অদম্য সাহস ও শক্তিতে ছুটে চলা নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশ মাতৃকাকে রক্ষা করা আপন মনের মাধুরী মিশায়ে উন্নত দেশ, সমাজ ও জাতি গঠন করাই তাঁর একান্ত কাম্য। কে এই বিস্ময় নারী ? কী বা তার পরিচয় ? এই বিস্ময় নারী আর কেহ নন। ইনি হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্ কন্যা শেখ হাসিনা।ইনি হলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক ও ঘোষক বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট্ট সেই হাসু (বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে আদর করে হাসু বলে ডাকতেন)। তোমার আমার প্রিয়দেশ প্রাণের দেশ বাংলাদেশ, যুগের পর যুগ সংগ্রামের ফসল আমাদের এই স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ। আর এই স্বাধীনতার মহানায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছোট থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন চঞ্চল, দুরন্তমনা ও অসীম সাহসী। তিনি ছিলেন নিরহংকার, অনাড়ম্বর, দয়ালু ও মহানুভব। ছিলেন মানবতার এক মুর্ত প্রতীক । মানুষের দুঃখ দুর্দশায় তাঁর প্রাণ কেঁদে উঠত। সারাটি জীবন তিনি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। নিজের দুঃখ কষ্টকে তুচ্ছ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য, এই মা মাটি ও মানুষের মঙ্গলের জন্য দিনের পর দিন জেল খেটেছেন। তিনি না থাকলে হয়ত কোনদিন স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। জননেত্রী শেখ হাসিনা তো তাঁরই সুযোগ্য সন্তান। যিনি আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। উন্নয়নের জোয়ারে ভাসমান সোনার তরীর তিনিই যে কান্ডারি ।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন :

বর্তমান সরকারের উন্নয়নে বিস্ময় আজি বিশ্ব, মোরেলগঞ্জবাসী উন্নয়ন মেলাতে দেখে যাও সে দৃশ্য।

শিক্ষা বান্ধব বর্তমান সরকারঃ শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অবিস্মরণীয় অবদান দেশ ও জাতিকে আজ উন্নতির স্বর্ণ শিখরে পৌছে দিয়েছে। শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেবার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ সমূহের মধ্যে অন্যতম হল ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে ১লা জানুয়ারি বিনামূল্যে বই বিতরণ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ব্যবস্থা, প্রাথমিক স্তরে স্কুল ফিডিং ও মিট ডে মিল বর্তমান শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন সংযোজন। দেশবাসীকে হতবাক করে ২০১৩ সালে বর্তমান সরকারের  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬,১৯৩টি রেজিঃ ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গ্রহণ করেছেন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এছাড়া প্রতিটি বছর প্রতিটি বিদ্যালয় স্লিপ বরাদ্ধ ৫০,০০০ টাকার মাধ্যমে সঠিক পরিকল্পনায় প্রতিটি বিদ্যালয় পরিণত হচ্ছে বা  হতে যাচ্ছে এক বিস্ময়কর শিশু স্বর্গে।

সমুদ্র বিজয়, পদ্মা সেতু নির্মান, রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটঃ

-বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারতের বিপক্ষে ২০১৪ সালের ৭ই জুলাই এবং মিয়ানমারের বিপক্ষে ২০১২ সালের ১৪ ই মার্চ সমুদ্র বিজয় অর্জিত হয়। কোন রকম যুদ্ধ সংঘাত বা বৈরিতা ছাড়াই দুই প্রতিবেশি ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র বিজয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে ১লাখ ১৮হাজার ৮শত ১৩বর্গ কিলোমিটারের বেশি টেরিটোরিয়ান সমুদ্র, ২০০ নোটিক্যাল মাইল এলাকায় একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান এলাকায় প্রাণীজ ও অপ্রাণীজ সম্পদের উপর সার্র্মভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ।

-যমুনার উপর বিশ্বের ১১তম দীর্ঘ সেতু তৈরি হয়েছে ২ দশক আগেই। আর এখন সারা বিশ্বকে অবাক করে নিজস্ব অর্থে পদ্মার উপর ৬.১ কিলেমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মান করছে বাংলাদেশ। বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর বিশাল এ প্রকল্প হাতে নেওয়ার ঘটনায় সারা বিশ্বকে বিস্মিত করেছে।

-দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে ১৭৫ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ ১লাখ ১৩হাজার কোটি টাকা খরচ করে স্থাপন করেছে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ জয়ের শুভ সুচনা শুরু।

এছাড়া বিশ্লেষকরা মনে করেন স্বাধীনতার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে স্থল সিমান্ত চুক্তি হয়েছিল বর্তমান সরকারের আমলে  তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিটমহল সমস্যা সমাধান করা বাংলাদেশের এক বড় অর্জন।

মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারঃ-

বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ ও গোষ্ঠীর চাপ থাকা স্বত্তেও মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার শেষে রায় কার্যকর করতে পারা, স্বাধীন বাংলাদেশকে কলংক মুক্ত করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের এক অবিস্মরণীয় সাফল্য।

এছাড়া ১৯৭১ সালের পর বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে তিনটি শর্ত পূরণ করে ২০১৮ সালে ১৬ই মার্চ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সীকৃতি লাভ করেছে। স্বাধীনতার পর আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৯০ ডলার। এখন তা ২০৬৪ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৮.১৫ শতাংশ যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এ যাবৎ কালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন। চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরেও ৮.২ শতাংশ জিডিপি  প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

অন্যদিকে দারিদ্রের হার কমানো, লিঙ্গ সমতা, নারীর ক্ষমতায়নে অনলাইনের প্লাটফর্ম(লাল সবুজ), শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমানোর সুচকে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাফল্যে বিশ্ব রীতিমত বিস্মিত। আয়তনে বিশ্বের ৯৪তম দেশ হওয়া স্বত্তেও বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বিশ্বের ২য়, ধান ও মাছ উৎপাদনে ৪র্থ, পোশাক রপ্তানিতে ২য়। উদ্দ্যোক্তা শূন্য বাংলাদেশ এখন লাখো উদ্দ্যোক্তা তৈরি হওয়া সহ সামদ্রিক আমদানি ও রপ্তানিতে পাকিস্তান সহ বহুদেশকে পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

উন্নয়নের সাফল্য ও জননেত্রীর পুরস্কার সমূহ :

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বিভিন্ন  অভিনব কর্মকান্ডে অবদানের জন্য ৩৭ টি আর্ন্তজাতিক পদকে ভূষিত করা হয়। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাঁকে শান্তির বৃক্ষ, ২০১৫ সালে ওমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাকে রিজিওনাল লিডারশীপ পুরস্কার, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝূঁকি মোকাবেলায় পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পদক চাম্পিয়ান্স অব দ্য আর্থ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কারে ভূষিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৭০ তম অধিবেশনে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে “ এজেন্ট অব চেঞ্জ” পুরস্কার ও “প্লানেট ৫০-৫০ চাম্পিয়ান” প্রদান করা হয়।

এছাড়া ২০১৩ সালে ইন্টারন্যশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ কো অপারেশন পদক, একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের জন্য মান্থন এওয়ার্ড এবং সর্বশেষ ভারতে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করা সহ নানাবিধ পুরস্কারে ভূষিত হন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

বর্তমান বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল । বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।  একদিন আমি কল্পনা করতে পারিনি মোবাইলে কথা বলতে পারব, আর এখন ফোর জি ব্যবহারকারী, আজ বিশ্ব যেন হাতের মুঠোয়।  আজ আমরা মাথা উচু করে বলতেই পারি আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন স্বার্থক ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক।

লেখক : সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার,মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here