পেট্রাপোল বন্দরের জীবন, জীবিকা বাঁচাও কমিটির কর্মবিরতিতে বাণিজ্য বন্ধ

45

মোঃ মাসুদুর রহমান শেখ, বেনাপোলঃ
আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী এসএফের নানান হয়রানী বন্ধসহ ৫ দফা দাবী বাস্তবায়নে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ রেখেছেন ভারতের পেট্রাপোল বন্দর জীবন-জীবিকা বাঁচাও কমিটি নামে একটি সংগঠন। তবে এপথে আমদানি, রফতানি পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে। সংগঠনটির ডাকা কর্মবিরতীতে রোববার সকাল থেকে এপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি,রফতানি বন্ধ রয়েছে।

এদিকে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই পার বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় শত শত পণ্য বোঝায় ট্রাক আটকা পড়েছে। এ পর্যন্ত কোন সমাধান না আসায় বাণিজ্য সচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকশানের কবলে পড়েছেন। আটকে পড়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট ও পাট জাত পণ্য, মাছ, শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরী পোশাক, মেশিনারিজসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য দ্রব। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৫ শতাধিক ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পন্য আমদানি ও দেড় শতাধিক ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য ভারতে রফতানি হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পাদনে ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ সদস্যরা বেনাপোল বন্দরে আসা-যাওয়া করতেন। কিন্তু সীমান্তরক্ষী বিএসএফ সাম্প্রতি নিরাপত্তা জনিত কারণ দেখিয়ে তাদের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এছাড়া বিএসএফের সুনিদিষ্ট অভিযোগ ছাড়া ট্রাক তল্লাশিতে দীর্ঘ সময় ক্ষেপন হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হতে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। কিন্তু কোন সমাধান না আসায় বাধ্য হয়ে বন্দর জীবন-জীবিকা বাঁচাও সংগঠনটি কর্মবিরতী পালন করে আমদানি, রফতানি বন্ধ করে দেয়।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ভারতীয় সংগঠনটির ৫ দফা দাবীর মধ্য রয়েছে, ১/ সাধারণ ব্যবসায়ী এবং মুদ্রা বিনিময়কারী পরিবহন, ক্লিয়ারিং ও ফরোয়াডিং এজেন্ট ও ট্রাক চালক সহকারীর উপর বিএসএফ ও অনান্য এজেন্সীর কর্তৃক নিরাপত্তার নামে অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। ২/অবিলম্বে পূর্বের ন্যায় হ্যান্ডকুলি ও পরিবহন কুলিদের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে। ৩/ বাণিজ্যিক সার্থে পূর্বের ন্যায় পণ্যবাহী চালক ও সহকারীদের পায়ে হেটে পেট্রাপোল ও বেনাপোল বন্দরের মধ্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪/ বাংলাদেশে পণ্য নিয়ে যাওয়া পরিবহনের ট্রাকগুলো ২৪ ঘন্টার মধ্যে খালি করার ব্যবস্থা করতে হবে। ৫/ আধুনিকতার অযুহাতে বন্দরের শ্রমিকদের কর্মহীন করা চলবে না।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, ভারতীয় সংগঠন যৌতিক দাবী নিয়ে তারা কর্মবিরতী পালন করেছে। তবে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা যেমন লোকশানের মুখ্যে পড়েছেন। সন্তোষ জনক সমাধানের মাধ্যমে দ্রুত পণ্য পরিবহন শুরু হবে এমনটি আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীন সমস্যার কারনে আমদানি,রফতানি বন্ধ রয়েছে। এতে সবাই ক্ষতির মুখে। তবে বেনাপোল বন্দরে পন্য খালাস কার্যক্রম সচল রয়েছে। চলমান সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে যাতে দ্রুত বাণিজ্য সচল হয় তার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ্যের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব জানান, ইমিগ্রেশন দিয়ে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিক রয়েছে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here